WEST BENGAL SCHEDULED TRIBE WELFARE ASSOCIATION

পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি

ESTD. 2020 | REGD. NO: SO015661 OF 2020-21

OASIS Scholarship-এর বকেয়া টাকার দাবিতে পুরুলিয়ায় ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ ও NH-18 অবরোধ

জেলা BCW দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, ৯ তারিখের মধ্যে টাকা দেওয়ার লিখিত আশ্বাসের দাবি আন্দোলনকারীদের

পুরুলিয়া, ৬ অক্টোবর ২০২৬:
OASIS Scholarship-এর বকেয়া টাকা দ্রুত দেওয়ার দাবিতে পুরুলিয়ায় ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বহু ছাত্রছাত্রী তাঁদের প্রাপ্য scholarship-এর টাকা পাননি। একাধিকবার গণ ডেপুটেশন ও প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

এই আন্দোলনের সময় পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতির (West Bengal Scheduled Tribe Welfare Association) রাজ্য যুব সম্পাদক হিরণময় হাঁসদা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে OASIS Scholarship-এর টাকা না পাওয়া, জেলা BCW দফতরের ভূমিকা, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার অভাব এবং ৯ তারিখের মধ্যে টাকা দেওয়ার লিখিত আশ্বাস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়।

জেলা BCW অফিসে ছাত্রদের বসিয়ে রাখার অভিযোগ

হিরণময় হাঁসদার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন ছাত্র জেলা BCW অফিসে গিয়ে তাঁদের সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের অফিসের বাইরে বসিয়ে রাখা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, ছাত্ররা প্রশাসনের কাছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা চেয়েছিলেন—কবে তাঁদের scholarship-এর টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ছাত্রছাত্রীরা দু’বার গণ ডেপুটেশন এবং একাধিকবার representation দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

Scholarship-এর টাকা না পেলে পড়াশোনায় সমস্যা

বক্তার বক্তব্যে ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সমস্যার বিষয়টিও উঠে আসে। তাঁর দাবি, scholarship-এর টাকা না পেলে অনেক ছাত্রছাত্রীর হোস্টেল ও পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষ করে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশ ছাত্রাবাস বা hostel-এর উপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের বছরও পুরুলিয়া জেলা BCW-এর মাধ্যমে অনেক ছাত্রছাত্রী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ সময়মতো পাননি এবং চলতি বছরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

৯ তারিখের মধ্যে টাকা দেওয়ার লিখিত আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন

আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে একটি লিখিত কাগজ।

হিরণময় হাঁসদার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনরত ছাত্রদের হাতে একটি দু’লাইনের লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়, যেখানে আগামী ৯ তারিখের মধ্যে scholarship-এর টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে তাঁর প্রশ্ন, এই প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করার প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কার?

তিনি দাবি করেন, ওই কাগজে Deputy SP-এর স্বাক্ষর করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, OASIS Scholarship-এর অর্থ প্রদান করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে Deputy SP-এর সরাসরি administrative authority নেই। তাই তিনি এই ধরনের প্রতিশ্রুতির বৈধতা ও কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

“করার কথা কার? জেলা BCW-এর, জেলা PO-cum-BCW-এর—যে হচ্ছে এই জেলার সঠিক অথরিটি।”
— হিরণময় হাঁসদা

OASIS Scholarship-এর payment process নিয়ে বক্তব্য

হিরণময় হাঁসদার বক্তব্য অনুযায়ী, OASIS Scholarship-এর টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে।

তাঁর বক্তব্যের সারাংশ হলো—State level থেকে অর্থ বরাদ্দ/প্রেরণের পর তা District BCW-এর সংশ্লিষ্ট fund/process-এর মাধ্যমে eligible ছাত্রছাত্রীদের bank account-এ পৌঁছানোর কথা।

এই কারণেই তাঁর প্রশ্ন, যদি District BCW কর্তৃপক্ষই scholarship payment-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে District BCW কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই স্পষ্ট লিখিত নিশ্চয়তা কেন দেওয়া হচ্ছে না?

এখানে উল্লেখযোগ্য, এগুলি আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ও দাবি; OASIS-এর সরকারি payment workflow এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

District BCW কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বক্তার দাবি, scholarship-এর টাকা ছাত্রদের account-এ না পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছেই তার জবাবদিহি থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ছাত্ররা জেলা BCW কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছিলেন এবং একটি পরিষ্কার ঘোষণাপত্র বা লিখিত আশ্বাস চেয়েছিলেন যে ৯ তারিখের মধ্যে তাঁদের টাকা account-এ পৌঁছে যাবে।

কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই তাঁদের বাইরে বসিয়ে রাখা হয় এবং পরে একটি কাগজ দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।

“তাহলে ৯ তারিখে টাকা ঢোকার গ্যারান্টি কোথায়?”

হিরণময় হাঁসদা তাঁর বক্তব্যে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে তোলেন।

তাঁর বক্তব্যের যুক্তি ছিল—যদি District BCW কর্তৃপক্ষ নিজেরা লিখিতভাবে দায়িত্ব না নেন, তাহলে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে ৯ তারিখে তাঁদের scholarship-এর টাকা সত্যিই account-এ পৌঁছাবে?

তাঁর মতে, ছাত্ররা কোনও অযৌক্তিক দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে যায়নি; তাঁরা শুধু একটি স্পষ্ট লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

আন্দোলনের সময় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি এবং ভূমিকা নিয়েও বক্তা প্রশ্ন তোলেন।

হিরণময় হাঁসদার অভিযোগ, ছাত্রদের মূল সমস্যার সমাধান না করে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে আন্দোলনকে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

“আজকের আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি”

হিরণময় হাঁসদা স্পষ্টভাবে বলেন যে এই আন্দোলন কোনও হঠাৎ তৈরি হওয়া ঘটনা নয়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬—পরপর একাধিক বছর OASIS Scholarship-এর টাকা পাওয়া নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা ও আন্দোলন হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রশাসনের কাছে গিয়েছেন এবং গণ ডেপুটেশন দিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য:

“আজকের এই হঠাৎ করে আন্দোলন নয়, এটা দীর্ঘ আন্দোলন।”

বেছে বেছে টাকা দেওয়ার অভিযোগ

বক্তা আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সমস্ত eligible ছাত্রছাত্রীর scholarship একসঙ্গে না দিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রীর account-এ আংশিক বা কিছু টাকা পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, এর ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ না পেলেও আন্দোলনের চাপ কমে যায়।

তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সরকারি প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট দফতরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়নি।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি

সমগ্র বক্তব্য থেকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মূলত কয়েকটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত:

  1. বকেয়া OASIS Scholarship দ্রুত প্রদান।
  2. Scholarship payment-এর বিষয়ে স্পষ্ট লিখিত সময়সীমা।
  3. জেলা BCW কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব ও নিশ্চয়তা।
  4. যেসব ছাত্রছাত্রী এখনও টাকা পাননি, তাঁদের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি।
  5. Scholarship payment-এর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও eligibility সম্পর্কে স্বচ্ছতা।
  6. ভবিষ্যতে একই সমস্যা যাতে বারবার না হয়, তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা।

আন্দোলনের বার্তা

পুরো বক্তব্যের মূল সুর ছিল—ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের প্রাপ্য scholarship-এর টাকা চান এবং সেই টাকা কবে ও কীভাবে পাবেন সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা চান।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। আন্দোলনকারীরা অবশ্য দাবি করেন, শুধু পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত না করে মূল সমস্যা—scholarship payment—সমাধান করা দরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top